সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের উপর।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو
الْأَلْبَابِ
"তিনি যাকে চান হিকমাহ (জ্ঞানবত্তা) দান করেন। আর যাকে হিকমাহ দান করা হল, তার বিপুল পরিমাণে কল্যাণ লাভ হল। উপদেশ তো কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বুদ্ধির অধিকারী।” (সূরা বাকারাহ ২:২৬৯)
আবু ইসমাইল আল হারাবি রহিমাহুল্লাহ বলেন: 'হিকমাহ' হল কোন বস্তুকে তার উপযুক্ত স্থানে সুদৃঢ়ভাবে রাখা।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: হিকমাহ হল যা করা উচিত, যেভাবে করা উচিত এবং যে সময় করা উচিত, তা সেভাবে সেসময় করা।
ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন: হিকমাহ এমন ইলম, যা বিধি-বিধান সংবলিত, মহান আল্লাহর পরিচয় দানকারী, দৃষ্টির গভীরতা ও মনের সভ্যতা আনয়নকারী, সত্যকে সত্যে পরিণতকারী এবং তার উপর আমল বাস্তবায়নকারী এবং কুপ্রবৃত্তি ও ভ্রান্তির অনুসরণ করতে বাধাদানকারী। আর হাকিম হল, যার মাঝে এ বিষয়গুলো থাকে।
আমরা হিকমাহ এর এই সংজ্ঞাগুলো থেকে এই সারকথা বের করতে পারি যে, এটা হল কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানের পূর্ণাঙ্গতা, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রত্যেক বিষয়কে তার উপযুক্ত স্থানে রাখতে পারে এবং তার সামনে আগত সকল ঘটনাবলী ও সমস্যাবলী সঠিকভাবে সমাধান করতে পারে।
আর হাকিম হল, যার মাঝে এ বিষয়গুলোর সমন্বয় ঘটে। এটা অর্জিত হবে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নার মাঝে হক অনুসন্ধানের মাধ্যমে। তারপর মন্দের প্রতি প্ররোচনা দানকারী প্রবৃত্তির স্বার্থ পরিত্যাগ করতে হবে এবং তার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে হবে। হকের ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দার ভয় করা যাবে না।
এমন ব্যক্তিকেই আল্লাহ হিকমাহ দান করেন। তখন সে কোন চিন্তা করলে সেটা হয় উত্তম চিন্তা। কোন কথা বললে সেটা হয় উত্তম কথা এবং কোন আমল করলে সেটা হয় উত্তম আমল।
আপনি যখন প্রথম প্রজন্ম, তথা সাহাবা, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন ও তাদের পরবর্তী পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন!) ব্যাপারে চিন্তা করবেন, তখন দেখতে পাবেন, তারা হিকমাহর এই মহান মর্মটি অর্জন করেছিলেন। যার ফলে তাদেরই একজন অপরজনের ব্যাপারে একথাও বলেছেন যে: "যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর কোন নবী হত, তবে অমুক হত।” এটা ইমাম হাসান আল বাসরী রহিমাহুল্লাহর ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মূর্খ দার্শনিকদের একটি বিস্ময়কর মূর্খতা হল, তারা কতিপয় কাফের ও নাস্তিককে হাকিম বা প্রজ্ঞাশীল বলে অভিহিত করে। তারা আমাদের ইমামগণ ও পুণ্যবান পূর্বসূরিদের হিকমাহ দেখেনি। যে তাদের হিকমাহর ঝর্ণাধারা থেকে পান করেছে এবং তাদের জ্ঞানের নদী থেকে অঞ্জলি ভরেছে, সেই হিকমত লাভ করতে পেরেছে।
আমাদের এ সময় নানামুখী ফেতনার তরঙ্গ এবং ভালো-মন্দ মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ও হাকিমদের (প্রজ্ঞাবানদের) খুব প্রয়োজন। যারা বিশুদ্ধ ইলমের নূরে আলোকিত হবেন এবং প্রতিটি বস্তুকে যথাযথ স্থানে রাখবেন। ফলে কঠোরতার জায়গায় নমনীয় হবেন না, নমনীয়তার জায়গায় কঠোর হবেন না। নীরবতার জায়গায় কথা বলবেন না এবং কথা বলার স্থানে নীরব থাকবেন না। তিনি বুঝবেন, উপযুক্ত সময়ে ও উপযুক্ত স্থানে তাদের কী উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।
কারণ হিকমাহবঞ্চিত লোকের দ্বারা অনুপযুক্ত স্থানে কঠোরতা তার উপর এবং তার আশপাশের সকলের উপর মারাত্মক বিপর্যয় টেনে আনবে। এমনভাবে হিকমাহবঞ্চিত লোকের দ্বারা অনুপযুক্ত স্থানে কোমলতাও হতভাগা ব্যক্তিদেরকে তার উপর ও তার আশপাশের সকলের উপর দুঃসাহসী করে তুলবে। প্রজ্ঞাবান হল, যে প্রতিটি স্থানে সঠিক আচরণ করতে তাওফিকপ্রাপ্ত হয়।
এ যুগে যাদের জন্য হিকমাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তারা হলেন, যারা বিকৃতিকারীদের বিকৃতিকে সংস্কারের জন্য কাজ করেন। অর্থাৎ মুমিন মুজাহিদগণ। যেমন কথিত আছে: "হিকমাহ হল মুমিনের হারিয়ে যাওয়া সম্পদ, সে যেখানেই ওটা পায়, সেখান থেকেই সর্বাগ্রে তা নিয়ে নেয়।"
এজন্য তাদের উচিত হিকমার আসল উৎস, তথা আল কুরআনুল কারীম, বিশুদ্ধ নববী সুন্নাহ এবং শরয়ী বর্ণনাসমূহ বুঝার ক্ষেত্রে পুণ্যবান পূর্বসূরিদের এবং তাদের সময়ে তাদের বাস্তবতায় সংঘটিত ঘটনাবলীতে তাদের কর্মপদ্ধতি থেকে হিকমাহ অনুসন্ধান করা এবং তা অর্জনের চেষ্টা করা। মুজাহিদগণেরও উচিত হিকমাহ অর্জনে চেষ্টার ত্রুটি না করা। যদিও তা এমন কারো থেকে হয়, যে এর যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তার মুখ থেকে তা বের করে দিয়েছেন। যেমন কথায় আছে: "পাগলদের মুখ থেকেও হিকমাহ গ্রহণ কর।"
মুজাহিদগণকে অবশ্যই বীরত্ব, ক্ষিপ্রতা ও উদ্যমতার অধিকারী হতে হবে। কিন্তু এই বীরত্ব, শক্তি ও ক্ষিপ্রতা হিকমত ছাড়া হলে তা কখনো নেতিবাচক ও বিরূপ ফলাফল নিয়ে আসতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর বিপর্যয় নেমে আসবে। কখনো তাদেরকে বিকৃতি ও উল্টো পথে নিয়ে যাবে। অথবা বিভ্রান্তি ও ভুলের মধ্যে গোঁড়ামি সৃষ্টি করবে এবং অবশেষে তাদেরকে নিহত বা বন্দি বা বিতাড়িত হিসাবে ধ্বংস করে দিবে। এই ফলাফল অনুসন্ধানকারী ও গবেষকগণ দেখেছেন অতীত সম্প্রদায়ের মাঝে এমনটা হয়েছে আর এ যুগেও কেউ কেউ এই পদ্ধতিতে গোমরাহ হয়েছে।
আমি এটা বলি না যে, এরকম পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক ঘটনাগুলোর সকল লোকগণ পথভ্রষ্ট ও সত্যবিরোধী। বরং কখনো কখনো তাদের মাঝে পুণ্যবান সংস্কারকগণও ছিলেন। কিন্তু তারা তাদের কার্যাবলীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিকমাহ থেকে দূরে থেকেছেন। তবে আল্লাহ তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের জন্য তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। যেমন কবি বলেছেন:
الرأي قبل شجاعة الشجعان هو أول وهي المحل الثاني فإذا هما اجتمعا بنفس حرة بلغت من العلياء كل مكان
অনুবাদঃ “বাহাদুরের বাহাদুরিরও পূর্বে জ্ঞান। এটা প্রথম আর ওটা দ্বিতীয় পর্যায়ে। আর যখন কোন মর্যাদাবান ব্যক্তির মাঝে উভয়টার সমাবেশ ঘটবে, তখন সে সর্বস্থানে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যাবে।”
এর বিপরীতে যে বীরত্ব, শক্তি ও ক্ষিপ্রতা ছাড়া এবং আল্লাহর পথে কাজ, পরিশ্রম ও বিপদের ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া শুধু জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকেই যথেষ্ট মনে করে, তার প্রকৃত অবস্থা হল, সে কাপুরুষ; হিকমাহ ও জ্ঞানের দাবি করে নিজের কাপুরুষতা ও ভঙ্গুরতা আড়াল করছে।
যেমন কবি বলেন:
ير الجبناء أن العجز عقل وتلك خديعة الطبع اللئيم وكل شجاعة في المرء تغني ولا مثل الشجاعة في الحكيم
অনুবাদঃ "কাপুরুষরা মনে করে, অক্ষমতাই জ্ঞান। এটা হল হীন স্বভাবের ধোঁকা। মানুষের যেকোনো বীরত্ব তাকে স্বয়ংসম্পন্ন করে। হিকমতওয়ালার মাঝে বীরত্বের সমতুল্য কিছু নেই।”
রাসূলুল্লহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতের কতক লোককে তাদের মাঝে হিকমাহ থাকার কারণে প্রশংসা করেছেন এবং হিকমতকে ঈমান ও ফিকহের সাথে মিলিয়েছেন। আর তাদের গুণাবলীর মধ্যে কোমলতা ও নম্রতাও উল্লেখ করেছেন। যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ هُمْ أَضْعَفُ قُلُوبًا وَأَرَقُ أَفْئِدَةَ الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
"তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসী এসেছে। তারা খুব নরম মন ও কোমল হৃদয়ের লোক। ঈমান ইয়ামান হতে এসেছে এবং প্রজ্ঞাও ইয়ামান হতে এসেছে"। (জামে আত-তিরমিজি – ৩৯৩৫)
অন্য বর্ণনায় এসেছে:
أتاكم أهل اليمن ، هم أَلْيَنُ قلوبًا ، و أَرَقُ أفئدة
"তোমাদের নিকট ইয়ামানবাসী এসেছে, তারা সর্বাধিক নরম অন্তর ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী।”
এই হাদিস শরীফ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, হিকমাহকে ঈমান ও ফিকহের সাথে মিলানো হয়েছে। হিকমাহর অধিকারী মুমিন ফকীহ কোমলতা ও নম্রতার দিকটিকে, কঠোরতা ও রুক্ষতার উপর প্রাধান্য দেয়। অনুপযুক্ত পাত্রে ও অনুপযুক্ত স্থানে কঠোরতা ও রুক্ষতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসেরই অপর একটি বর্ণনায় নিন্দা করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
حديث أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الْفَخْرِ وَالْخُيَلاءُ فِي الْفَدَّادِينَ أَهْلِ الْوَبَرِ، وَالسَّكِينَةُ فِي أَهْلِ الْغَنَمِ وَالإِيمَانُ يَمَانٍ، وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ
“গর্ব ও অহমিকা রয়েছে চিৎকার ও শোরগোলকারী বেদুঈনদের মধ্যে, স্বস্তি ও শান্তি বকরী পালকদের মধ্যে, ঈমান ইয়ামানবাসীদের মধ্যে এবং হিকমাতও ইয়ামানবাসীদের মধ্যে বেশী রয়েছে"। (বুখারী পর্ব ৬১: /১ হাঃ ৩৪৯৯, মুসলিম ১/২১ হাঃ ৫২)
তাই একজন মুমিন মুজাহিদ চেষ্টা করবে মানবসভ্যতার যাত্রাকে সঠিক ও সংশোধন করতে, তাদেরকে হেদায়েতের দিকে পথনির্দেশ করতে এবং তাদেরকে বান্দার দাসত্ব থেকে বের করে বান্দার রবের দাসত্বের দিকে নিয়ে যেতে। বিভিন্ন ধর্মের জুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের বিশালতার দিকে নিয়ে যেতে। সে হিকমাহর স্তরে পৌঁছতে চেষ্টা করবে। হিকমাহর অধিকারী পুণ্যবান মুমিন ফকীহগণের সাথে উঠাবসা করবে এবং এই উদ্দেশ্য অর্জনে একটুও অলসতা করবে না, যার ব্যাপারে মহান পবিত্র আল্লাহ বলেছেন:
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو
الْأَلْبَابِ
"তিনি যাকে চান হিকমাহ (জ্ঞানবত্তা) দান করেন। আর যাকে হিকমাহ দান করা হল, তার বিপুল পরিমাণে কল্যাণ লাভ হল। উপদেশ তো কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বুদ্ধির অধিকারী।” (সূরা বাকারাহ ২:২৬৯)
কবি বলেছেন:
ولم أرفي عيوب الناس شيئا كنقص القادرين علي التمام
অনুবাদঃ "পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম ব্যক্তি ত্রুটির মধ্যে পড়ে থাকার চেয়ে বড় দোষ আমি মানুষের মধ্যে দেখিনি।”
তাই হে মুজাহিদ ভাই,
হিকমাহ অর্জনের জন্য ব্যাকুল হোন। হয়ত আল্লাহ আপনাকে সেই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করবেন, যাদের হাতে মানবসভ্যতার সংস্কার হবে। আর যত লোক আপনার হাতে হেদায়েতের অনুসারী হবে, প্রত্যেকের পুরস্কার আপনার জন্য লেখা হবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى
ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا.
“যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেই পরিমাণ ছওয়াব রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ এতে তাদের নিজস্ব ছওয়াবে কোনরূপ কমতি হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কাউকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও ঠিক সেই পরিমাণ গোনাহ রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ তাদের নিজস্ব গোনাহে কোনরূপ কমতি হবে না”। (মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৮)।
আমাদের সর্বশেষ কথা: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।