সফলতা ও কবুলিয়তের মানদন্ড স্রেফ অনুসারীর সংখ্যা না। এমনকি দুনিয়াবি পরিণতির ক্ষেত্রেও তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক না। তাই দ্রুত অনুসারী বাড়াই আশু ফলাফলের ইংগিত দেয়না।

আমরা জানি যে, কোনো কোনো নবী (আঃ) একজনও  অনুসারী ছিল না।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا فَقَالَ: "عُرِضَتْ عَلَىَّ الأُمَمُ، فَجَعَلَ يَمُرُّ النَّبِيُّ مَعَهُ الرَّجُلُ، وَالنَّبِيُّ مَعَهُ الرَّجُلاَنِ، وَالنَّبِيُّ مَعَهُ الرَّهْطُ، وَالنَّبِيُّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন — একদিন নবি (সাঃ) আমাদের কাছে এসে বললেন:

"আমার সামনে বিভিন্ন উম্মতকে (জাতিকে) উপস্থাপন করা হলো। কোনো নবির সাথে একজন লোক, কোনো নবির সাথে দুইজন, কোনো নবির সাথে একটি দল আসছিল — আর কোনো নবির সাথে কেউই ছিল না।

(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৫২)

আবার এও জানা যায় যে, ইউনুস (আঃ) এর জাতির সবাই ঈমান এনেছিল।

فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَىٰ حِينٍ

"অতঃপর কোনো জনপদ কেন এমন হলো না, যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত, ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতীত? তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনে অপমানজনক শাস্তি সরিয়ে নিলাম এবং তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগ করতে দিলাম।" (সুরা ইউনুস, ১০: ৯৮)

আমরা দেখি, আবু তালিব যখন মারা গেলেন আর নবী সাঃ কষ্ট পাচ্ছিলেন এই কারণে যে, আবু তালিব ইসলাম কবুল করেন নি। আল্লাহ তা’আলা তখন আয়াত নাযিল করেছিলেন –

اِنَّكَ لَا تَهۡدِىۡ مَنۡ اَحۡبَبۡتَ وَلٰـكِنَّ اللّٰهَ يَهۡدِىۡ مَنۡ يَّشَآءُ​ؕ وَهُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُهۡتَدِيۡنَ‏ ٥٦

অর্থঃ তুমি যাকে ভালবাস তাকে হিদায়াত করতে পারবে না, বরং আল্লাহ যাকে চান হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি ভাল করেই জানেন। [সূরা আল – কাসাস, ৫৬]

সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে হবে আর ফলাফল তো আল্লাহ তা আলার উপরই ন্যস্ত এটা মাথায় রাখা জরুরি।

আবার এমনও নয় যে, নিজেদের গুনাহ, অনৈক্য বা ভুল উসুলের অনুসরণের কারণে ফলাফল পাওয়া না গেলে, তা শুধু তাকদিরের দিকে ফিরিয়ে দিব।

শায়খ আবদুল্লাহ আযযাম (রহ) বলেন –

কখনো ইসলামী আন্দোলনের কর্মী মোট জনসংখ্যার ১০ ভাগের ১ ভাগও হবে না। মানুষ শক্তি ও বিজয় দেখেই আসে।”

তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, স্বেচ্ছায় জনবিচ্ছিন্ন হওয়া বা অতিসংকীর্ণ মানসিকতার কারণে একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে আবদ্ধ হয়ে থাকাও কাঙ্ক্ষিত না। অগ্রগামী, উন্নত মানুষ কম আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এটাও ঠিক নয় যে, নিজেদের পরিসর সংকীর্ণতা বা অলসতাবশত ক্ষুদ্র করে ফেলা হবে।

তাহলে এখানে সমন্বয়টা আসলে কিভাবে হবে

মূলত –

ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ব্যক্তি সর্বদাই কম হবে। বিশেষত শুরুর দিকে। যখন সংখ্যাধিক্য, পরিচিতি বা প্রভাব থাকে না তখন মানুষের সমাগম কম হয়। কর্তৃত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি পেলে আবার অনুগামীদের সংখ্যা বাড়ে।

আবার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে, সংকীর্ন মানসিকতা ধারণ করে ক্ষুদ্র পরিসরে আটকে থাকার প্রবণতা থেকেও মুক্ত থাকতে হবে।

আবার চাইলেই দাওয়াতের উপর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব না। বরং তা সম্পূর্ণই আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছাধীন।

আবার আরেকটা বিষয় হলো – সংগঠন নিজ বিচ্যুতির কারণে যদি সফল না হয়, তার কার্যক্রম যদি গতিশীল না থাকে আর বলা হলো যে- ‘ফলাফল তো আল্লাহ তা’আলার হাতে’- এটাও সঠিক হবে না।

তাহলে এখানে সমন্বয়টা কিভাবে হবে?

কুরআন – সুন্নাহ এবং বাস্তবতার সঠিক বিশ্লেষণের আলোকে সঠিকতার সর্বাধিক নিকটবর্তী হবার চেষ্টা করতে হবে। শরঈ মানদন্ড, ঐতিহাসিক মানদন্ড এবং সার্বজনীন মানদন্ড নিশ্চিত করার মাধ্যমে অগ্রসর হবার চেষ্টা করতে হবে। সংগঠনের দেখতে হবে যে –

প্রথমত, কুরআন–সুন্নাহ ও সিরাতে যে মূলনীতি ও দিকনির্দেশনাগুলো বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো জানতে, বুঝতে হবে এবং বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সমসাময়িক যুগে স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে যে মূলনীতি ও পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে সফলতা এসেছে, (কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী না হবার শর্তে), তা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে। যদি কালোত্তীর্ণ মূলনীতি অনুসরণ করে আল্লাহর অনুগ্রহবঞ্চিত মানুষেরা সফলতা অর্জন করতে পারে; তাহলে আল্লাহ তাআলার হিদায়াত ও তাওফীক থাকা সত্ত্বেও ইসলামপন্থীরা কেন পারবে না?

তৃতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে যে প্রক্রিয়াগুলো কুরআন –সুন্নাহবিরোধী নয় এবং অভিজ্ঞতালব্ধ, সেগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। 

এরপরও ভুলত্রুটি হয়ে গেলে শুধরে নেয়া এবং শিক্ষাগ্রহণ করা। এবং অবশ্যই ইস্তিআনা ও ইস্তিগফার জারি রাখা।

এজন্যই আদর্শিক আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে সাংগঠনিক গভীরতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কিছু আমানতদার, অগ্রগামী সংগঠক ও ভাইদের তুলে এনে সংগঠিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; যাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:

আকিদার সঙ্গে আপোষ না করা।

সুন্নাহর অনুসরণ, ইখলাস, সবর ও তাকওয়াকে আঁকড়ে ধরা।

ঐক্যবদ্ধভাবে সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনে লেগে থাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া।

সঠিক কর্মপদ্ধতি বজায় রাখা। সংহতি বজায় রেখে সঠিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অনুসরণ করা।

আত্মত্যাগ বৃদ্ধি করা।

উত্তম আখলাক গড়ে তোলা।

চিন্তাভাবনা ও কথাবার্তাকে সুবিন্যস্ত করা।

নিবেদন বাড়ানোতে সচেষ্ট থাকা।

এই উন্নত ব্যাক্তিত্বের ঈমানদারদের মেহনত ও আত্মত্যাগকে সুসংগঠিত করে জমিনে ছড়িয়ে দেয়া গেলে আলহামদুলিল্লাহ কোনো আক্ষেপ থাকবে না। কিন্তু যদি এই জায়গাগুলোতে ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

সীরাহতে নজর দিলে দেখা যায়, খন্দকের যুদ্ধের সময়ে মুনাফিকরা বলাবলি করতো যে, “আমাদের বলা হয়েছে আমরা কিসরা-কায়সারের প্রাসাদ বিজয় করবো, অথচ এখন আমরা শত্রুর ভয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজনই সারতে পারছি না।”

আল্লাহ তা’আলা সাহাবীদের রাঃ সম্পর্কে বলছেন –

اِذۡ جَآءُوۡكُمۡ مِّنۡ فَوۡقِكُمۡ وَمِنۡ اَسۡفَلَ مِنۡكُمۡ وَاِذۡ زَاغَتِ الۡاَبۡصَارُ وَبَلَغَتِ الۡقُلُوۡبُ الۡحَـنَـاجِرَ وَتَظُنُّوۡنَ بِاللّٰهِ الظُّنُوۡنَا ؕ‏ ١٠

তারা যখন তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপর থেকে আর তোমাদের নীচের দিক থেকে, তখন তোমাদের চক্ষু হয়েছিল বিস্ফোরিত আর প্রাণ হয়েছিল কণ্ঠাগত; আর তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা রকম (খারাপ) ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলে।

এছাড়াও অন্যত্র আল্লাহ তা আলা বলেন –

وَاذۡكُرُوۡۤا اِذۡ اَنۡـتُمۡ قَلِيۡلٌ مُّسۡتَضۡعَفُوۡنَ فِى الۡاَرۡضِ تَخَافُوۡنَ اَنۡ يَّتَخَطَّفَكُمُ النَّاسُ فَاٰوٰٮكُمۡ وَاَيَّدَكُمۡ بِنَصۡرِهٖ وَرَزَقَكُمۡ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُوۡنَ‏ ٢٦

স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প, দুনিয়াতে তোমাদেরকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হত। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, মানুষেরা তোমাদের কখন না হঠাৎ ধরে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, তাঁর সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করলেন, উত্তম জীবিকা দান করলেন যাতে তোমরা (তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [সূরা আনফাল, ২৬]

অর্থাৎ, বাহ্যিক পরিস্থিতি যা ই হোক, যত জটিলতাই আসুক- ঈমানদারদের উন্নত অংশটি সংগ্রামের ময়দান ছেড়ে যায়না, লড়াই জারি রাখে বরং আরো তীব্রতর করার মনোবল ধরে রাখে, একজনের অনুপস্থিতিতে আরেকজন এগিয়ে আসে, কাঠামো অটুট থাকে। আর তখনই বোঝা যাবে যে গভীরতা অর্জিত হয়েছে।

বিপরীতে মোহগ্রস্ত, ত্বরাপ্রবণ, বাহ্যিক চাকচিক্য বা পপুলিজমের চাপে যোগ দেয়া মানুষের অবস্থা হবে পলায়নপর। এমন ব্যাক্তিদের গ্রহণযোগ্যতা, বাগ্মীতা বা জনপ্রিয়তা যা ই হোক, সাংগঠনিক গভীরতা তাদেরকে একত্রিত করার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব না। আসলে এপ্রক্রিয়াটি বুঝতে আল্লাহ তা আলার তাওফিক, ইতিহাস ও বাস্তবতার প্রকৃত জ্ঞান ও সবর আবশ্যক।

সাংগঠনিক গভীরতা হলো এমন বিষয়, যেখানে সংখ্যার চেয়ে মান গুরুত্ব পায়। কতজন আছে এটা নিয়ে চিন্তা করাও জরুরি। কিন্তু মূল চিন্তা হবে উন্নত ভাইদেরকে সাংগঠনিকভাবে সামনে তুলে আনা যাচ্ছে কি না! এই সংগঠিত শক্তির মাঝে দীনের বিজয়ের জন্য ইচ্ছাশক্তিটা থাকতে হবে এবং আত্মমর্যাদা ধরে রেখে সংগ্রামটা চালিয়ে নিতে হবে। সংকটই আসুক আর সফলতাই আসুক। সংকটের সময় কাতর হয়ে পরবে না, আবার সাফল্যের সময় উল্লসিতও হয়ে পরবে না।

শায়খ আবদুল্লাহ খালিদ আদম রহ. বলেন,

"অলঙ্ঘনীয় মূলনীতি নির্ধারণ করতে হবে। নমুনা ও আদর্শ হিসেবে অল্প কিছু লোককে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা-দীক্ষা প্রদানের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া, সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করার ব্যাপারে নয়। কারণ, মানুষ নমুনা, দৃষ্টান্ত ও আদর্শিক ব্যক্তিবর্গকে দেখে নিজেদের মাঝে পরিবর্তন আনে। তাই সংখ্যার চাইতে মানের ব্যাপারে আমাদের বেশি যত্নবান হওয়া উচিত। সত্যবাদী ধৈর্যশীল লোকেরা যদি সংখ্যায় অল্প হন, তবুও আল্লাহর ইচ্ছায় তারা জয় লাভ করেন।

كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ 

"আল্লাহর সাহায্য নিয়ে একটি ক্ষুদ্র দলও বিশাল বাহিনীর ওপর জয়ী হয়েছে; আর যারা ধৈর্যশীল আল্লাহ তাদের সঙ্গে রয়েছেন।" (সূরা আল-বাকারাহ; ০২: ২৪৯)

দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সেসব আদর্শবান ব্যক্তির উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত, যারা অজ্ঞাত অবস্থা ও অপরিচিতির মাঝে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেন। যারা বন্ধু-শত্রু কারো কথায় আদর্শ বিকিয়ে দেবার কথা চিন্তাও করেন না। সেসব অনন্যসাধারণ ব্যক্তির যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণ দান অপরিহার্য, যারা জাহেলী সমাজের তাপে গলে যান না। সমাজের মাঝে দাওয়াতের কাজ করতে গেলে যে বৈরী পরিস্থিতি ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়, সেগুলোর সামনে যারা নত হয়ে যান না। আমরা সে সমস্ত প্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা ব্যক্তিকে চাই, যারা জাহেলিয়াতের ঝড়ো বাতাসে বিক্ষিপ্ত হয়ে উড়ে যান না।"

এজন্য শুরুতে সাংগঠনিক গভীরতা অর্জনের জন্য বিরামহীনভাবে সময় নিয়ে কাজ করে যেতে হয়।

সংকীর্ণতাবাদকে যেভাবে মোকাবিলা করা হয়, পপুলিজমকেও সেভাবে মোকাবিলা করা কাম্য। অন্যথায় মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হবেই, আগের ভুলই আবার হবে।

গভীরতা অর্জনের পরই কেবল বাকি পর্যায়গুলো- (যেমন, গণভিত্তি অর্জন, ইসলামবিরোধী শক্তির বিপরীতে গণআন্দোলন ইত্যাদি) ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর পরবর্তী পর্যায়ের সফলতা পূর্ববর্তী পর্যায়ের সফলতার উপরই নির্ভর করবে।

এবং পুরো প্রক্রিয়াটিই ধীর গতিতে অগ্রসর হয়। গভীরশক্তিশালী ও প্রগাঢ় পরিবর্তন শ্রমসাপেক্ষ যেমন। সময়সাপেক্ষও।