(১)

বিকেন্দ্রীভূত গড়ে ওঠা সফল আন্দোলনের পক্ষে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হতে পারে হেফাজত আন্দোলন বা আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ইরান বিপ্লবকে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের মাধ্যমে উপযুক্ত নের্তৃত্ব ও প্রকল্প উঠিয়ে আনার উদাহরণ হিসেবে।

কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় হেফাজতের মূল শক্তি কওমি মাদ্রাসা। সেখানে প্রত্যেক মাদ্রাসায় পড়া ভাইয়েরা ১২ – ১৩ বছরের একটা লম্বা সময় একত্রে থাকে, তাঁদের মাঝে বোঝাপড়া আগে থেকেই তৈরি হয়, আলেম–উলামাদের প্রতি তারা আন্তরিক ও আনুগত্যশীল। এছাড়াও কওমি মাদ্রাসাগুলো পরস্পরসংযুক্ত এক গভীর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগঠিত। ফলে আহমদ শফী বা আল্লামা বাবুনগরী যখন ডাক দিয়েছিলন, তখন দ্রুতই তাদের সাড়া দেয়া সম্ভব হয়।

একই কথা আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষেত্রেও। খোমেনি শিয়া মতাদর্শের আলেম ও মারজায়ে তাকলিদ ছিলেন। ইরানের শিয়া মাদ্রাসাগুলোকে বলা হয় হাউজা। ইরানে হাউজার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল কোম, আর ইরাকে নাজাফ। খোমেনি কোমের একটি হাউজাতেই পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৩ সালে শাহের বিরুদ্ধে খোমেনির প্রথম বড় বিরোধিতা (যা তার গ্রেপ্তার ও পরে নির্বাসনের দিকে নিয়ে যায়) কোম থেকেই শুরু হয়।

পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফে নির্বাসনে থাকা অবস্থায়ও খোমেনি তার প্রাক্তন ছাত্র ও নাজাফি হাউজার সংযোগ ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে বার্তা পাঠাতেন — ক্যাসেট টেপ, লিফলেট ও চিঠির মাধ্যমে; যা হাউজা ও মসজিদকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে বিতরণ হতো।

দেখা যাচ্ছে যে, উভয় আন্দোলনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই একটা সুপ্রাচীন সামাজিক ভিত্তি ও নেটওয়ার্ক ছিল – যেটাকে আলেম শ্রেণী রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত করেছিলেন। অর্থাৎ, আগে থেকেই এখানে একটা অর্গানাইজড ফোর্স বিদ্যমান ছিল।

বিষয়টা এমন না যে, বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হয়েছিল এবং পরীক্ষিত ব্যক্তিরা উঠে আসছে। বা কিছু কেবল আকিদা-মানহাজের বোঝাপড়া আর কর্মসূচীকেন্দ্রিক ঐক্যের মাধ্যমেই হেফাজত আন্দোলন বা খোমেনির আন্দোলন সম্ভাবনাময় হয়েছিল।

আরেকটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার যে, ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে গড়ে উঠা আন্দোলনের জন্য- ইলমী পরিবেশে বেড়ে উঠা কওমি মাদ্রাসার উলামা-তলাবাদের বা হাউজার শিক্ষক-ছাত্রদেরকে যেভাবে তুলে আনা সহজ, সেটা এই বৃত্তের বাইরে সাধারণভাবে সহজ না। মানে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও সংস্কৃতির আওতাধীন একই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর একত্রে থেকে যে বোঝাপড়া, সংহতি ও আনুগত্যের চেতনা জন্ম নেয়, তা স্রেফ  তাত্ত্বিক বোঝাপড়া বা কর্মসূচীকেন্দ্রিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না।

স্বত:স্ফূর্ত আন্দোলন মেরুকরণে ভূমিকা রাখে, এটা ঠিক। এমনকি তা অভ্যুত্থানেও ভুমিকা রাখে। তবে, শুধু আন্দোলন করে ইসলামপন্থীদের মূল সমস্যার সমাধান তথা কুফরের কর্তৃত্ব খর্ব করে ইসলাম কায়েম তো আসলে হচ্ছে না, যদি শক্তিশালী সংগঠন না থাকে।

ইসলামপন্থীদের মাঝে যে ইসলামী দাঈ বা নেতারা আছেন, বিগত সময়গুলোতে উনারা তো ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করে এসেছেন, সামনেও করবেন। আলহামদুলিল্লাহ এগুলোর সমূহ ফায়দা জাতি পেয়েছে, পাবে। তবে এটাও বাস্তবতা যে, বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের একটা বড় সংকট হলো—সবসময় আন্দোলনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনের মাধ্যমে অনেকবারই অনেক দাবী আদায় তো হয়ে আসছে। কিন্তু স্রেফ আন্দোলনের অভাবে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প পিছিয়ে আছে বা অসম্পূর্ণ হয়ে আছে, এমন তো বলাও হয় না। আন্দোলন, আত্মত্যাগ সবসময়ই হয়, হচ্ছে, হবে। যেটা গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক সময় চিন্তায় অনুপস্থিত থাকে, সেটা হলো- শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির প্রয়োজনীয়তা। তাই সেই জায়গায় গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক শক্তি বিকশিত হোক, নিজেদের মাঝে ভালোভাবে বোঝাপড়াটা হোক। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে প্রভাব তৈরি করাও উচিৎ। অর্জিত সাংগঠনিক শক্তি ও গণশক্তিকে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করে ধীরে ধীরে এগোনো উচিৎ।

যতটুকু সম্ভব, ততটুকু আন্দোলন তো করতেই হবে। তবে অবশ্যই সাংগঠনিক সামর্থ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে অগ্রসর হতে হবে। শক্তির অপচয় করে নয়। আবার যখন সামর্থ্যের বিষয়টি নূন্যতম স্তরে পৌঁছে যাবে এবং পরিস্থিতির দাবীও উপস্থিত- তখন আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

(২)

প্রশ্ন আসতে পারে, ইসলামপন্থীদের কেউ এমন কোনো সমান্তরাল সামাজিক শক্তি নির্মাণ করতে পারে কি না, যা এদেশের কওমী মাদ্রাসা বা ইরানের হাউজার মতো হবে। যে সামাজিক ভিত্তিকে রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত করে পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংকট কোথায় তা ইতিমধ্যেই তো বলা হলো।

এক্ষেত্রে রাশিয়ান বিপ্লবের সময়কার সোভিয়েতের উদাহরণও দেয়া হয়ে থাকে।

রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আগে শ্রমিক ও সৈনিকরা সোভিয়েতগুলোকে (যা ছিল বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ও সৈনিকদের গঠিত বিভিন্ন কমিটি মূলত) স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে তুলেছিল। এবং পরে সোভিয়েতগুলোকে সামনে রেখে ক্ষমতাগ্রহণের প্রাক্কালে বিভিন্ন গণকমিটি তৈরি করা হয় যা ক্ষমতা দখল ও সুসংহত করতে ভূমিকা রাখে।

ইতিপূর্বে বলশেভিকরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু সোভিয়েতগুলোয় ক্রমান্বয়ে নিজেদের লোকদের নের্তৃত্বে বসাতে সক্ষম হয়, যা পরবর্তীতে অভ্যুত্থান সম্পন্ন করে বলশেভিক পার্টিকে ক্ষমতায় যেতে সাহায্য করে।

এর আলোকে প্রস্তাবনা আসতে পারে-

সোভিয়েতগুলোর আদলে বিভিন্ন শহর, গ্রামে এরকম আলাদা আলাদা ইউনিট বা কমিটি গড়ে তোলা যেতে পারে। এবং বিপ্লবী পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীভূত করে পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।

এখানে, অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। প্রথমত, সোভিয়েতগুলোতে মূল শক্তি ছিল আগে থেকেই উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠিত শক্তি। যেমন- বলশেভিক, মেনশেভিক, সোশ্যালিস্ট রেভ্যুলেশনারীদের মত কেন্দ্রীভূত সংগঠন থেকে লোকজন গিয়ে সোভিয়েতগুলোকে নের্তৃত্ব ও পরিচালিত করেছে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী তো আরো সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত বাহিনী।

অর্থাৎ, সোভিয়েতগুলোর মূল জনশক্তি আগে থেকেই সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন, পরিপক্ক ও পরীক্ষিত ছিল। কেবলমাত্র সোভিয়েতের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা সংগঠিত হয়নি, রাজনৈতিক সচেতনতাও অর্জিত হয়নি। এমনকি ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের আগে সোভিয়েতগুলো অকার্যকর ছিল। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্যান্য সংগঠনগুলো থাকায়ই সোভিয়েতগুলো পুনরায় গঠন করা সম্ভব হয়।

আরো লক্ষণীয়, ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে লেনিন সুস্পষ্টভাবে এই জিনিসটা স্পষ্ট করেছে যে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সোভিয়েতগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথে যেতে হবে। এবং সে সোভিয়েতগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে লক্ষ্য করে সোভিয়েতকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোর মাধ্যমে দেশ শাসনের প্রস্তাবনা দেয়। বিষয়টা এমন নয় যে, সোভিয়েতকেন্দ্রিক আন্দোলন লেনিনের মূল পরিকল্পনায় ছিল। বরং সোভিয়েতকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোর বিশেষ প্রভাবকে সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগানোই ছিল লক্ষ্য।

লক্ষণীয় যে, একই বছর জুলাই মাসে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভের পর সরকারের দমনপীড়নের কারণে আগের সুযোগ ও উপযোগিতা থাকেনি। এবং শুধুমাত্র স্রেফ সোভিয়েতগুলোর উপর নির্ভর করে বিপ্লব সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় মর্মে নতুন অবস্থান গৃহীত হয়। লেনিনের “অল পাওয়ার টু দ্যা সোভিয়েতস” অর্থাৎ সোভিয়েতগুলোর সমন্বয়ে যে ক্ষমতাকাঠামো গড়ে উঠবে- তার উপর ভিত্তি করে যে আন্দোলনের কৌশল, এটা থেকে সে সরে এসেছিল। বরং বলশেভিক নের্তৃত্বাধীন সোভিয়েতগুলোকে কাজে লাগিয়ে অভ্যুত্থানের জন্য লেনিন সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে। সোভিয়েতগুলোতে নয়।

উল্লেখ্য, ২৫ শে অক্টোবর ১৯১৭ তে সারা রাশিয়ার সোভিয়েতগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার জন্য তারিখ নির্ধারিত হয়। লেনিন ২৫ তারিখের আগেই গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন করতে চাইলো যেন সম্মেলনে বলশেভিকদের নেতৃত্ব ও কর্মসূচী নিশ্চিত হয়। ট্রটস্কি সোভিয়েতগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে থাকায় অভ্যুত্থান বিলম্ব করতে আগ্রহী ছিল, যা প্রত্যাখ্যাত হয়।

কেননা, অগ্রণী হয়ে নের্তৃত্ব দিয়ে অভ্যুত্থান সফল করা ব্যতীত সোভিয়েতগুলোর কংগ্রেসে লেনিন ও বলশেভিক পার্টির পক্ষে চালকের আসনে থাকা ছিল অসম্ভব।

বোঝার সুবিধার্থে বলা হচ্ছে - ৫ই আগস্টে বিএনপি, জামাতের মত বৃহৎ দল থাকা সত্ত্বেও ডক্টর ইউনুস ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে ছাত্ররা। অভ্যুত্থানের সফল নের্তৃত্ব দেয়ায় অপ্রস্তুত, অপরিপক্ক, নিতান্তই নতুন ও অসংগঠিত হওয়া সত্ত্বেও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার গঠনে ছাত্রনেতাদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। তাহলে বিপ্লবী তত্ত্ব ও পরিকল্পনা, সুসংগঠিত শক্তি, লেনিনের মত আপসহীন সুদৃঢ় নেতা ও উপযোগী রাজনৈতিক লাইন নিয়ে আগে থেকে কাজ বলশেভিক পার্টি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারগঠন প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে বলাই বাহুল্য।

তাই আমরা দেখতে পাই, তত্ত্ব, সংগঠন ও রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে নের্তৃত্ব দেয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার লড়াইয়ে বিএনপির কাছে ছাত্রনেতাদের হার মানতে হয়।

বিপরীতে, বিএনপি  সংগঠিত এবং নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকায়, আন্দোলন-সংগ্রামের পেছনের কাতারে থাকা সত্ত্বেও - ক্ষমতার লড়াইয়ে এগিয়ে যায়।

রাশিয়ার উদাহারণে ফেরা যাক। অত:পর, বলশেভিক পার্টির নের্তৃত্বে অভ্যুত্থান সম্পন্ন হয় এবং ২৫ তারিখের সম্মেলনে সোভিয়েতগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বলশেভিকদের ক্ষমতা সুসংহত হয়। অথচ, পেত্রোগ্রাদ ও মস্কো ব্যতীত সোভিয়েতগুলোতে SR ও মেনশেভিকদের প্রভাব ছিল বেশি।

বলশেভিকরা অভ্যুত্থানে সফল নের্তৃত্ব দেয়ায় মানুষের বিপ্লবী আবেগ তাদের দিকেই ঝুকে ছিল এবং তা কাজে লাগিয়ে সোভিয়েতগুলোর সম্মেলনে গঠিত সরকারের প্রধাণ হিসেবে লেনিনকে ও নীতি হিসেবে নিজ কর্মসূচিকে চাপিয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে এস-আর ও মেনশেভিকরা ওয়াক আউট করলে তারা ক্ষমতা সুসংহত করতে সক্ষম হয়।

লক্ষণীয়, অভ্যুত্থান যদি বলশেভিকদের নেতৃত্বে না হতো, তাহলে উক্ত ২৫ তারিখের সম্মেলনে ট্রটস্কি রাশিয়ার কর্তৃত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাছ থেকে পুরোপুরি ছিনিয়ে নিয়ে সোভিয়েতদের হাতে দিতে চাওয়ার কথা বলতো। কিন্তু এতে বলশেভিক নের্তৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম।

তাই লেনিন ২৫ তারিখের আগে ২৪ তারিখেই গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন করে, ২৫ তারিখের সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব অর্জন করতে চেয়েছিল। কেননা, স্রেফ বিদ্যমান ভঙ্গুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করাই ক্ষমতা সুসংহত করা যথেষ্ট ছিল না। বরং বিদ্যমান সোভিয়েতগুলোর মাধ্যমে অন্যান্য জারবিরোধী শক্তিগুলোর সমর্থন বা নিদেনপক্ষে নিস্ক্রিয়তা জরুরি ছিল।

অর্থাৎ, সোভিয়েতগুলো নয়, বরং বলশেভিকদের সুসংগঠিত পরিকল্পনা, সংগঠন ও নের্তৃত্বই বিপ্লব সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছে। সোভিয়েতগুলোর নিয়ামক ভূমিকা অবশ্যই ছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় ভূমিকা নয়। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা সূচিত ও চূড়ান্ত হয় বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

সোভিয়েতগুলো বিপ্লবের ক্ষেত্রে সহায়ক ছিল, কিন্তু মূল ভুমিকা পালন করেছে দেড় যুগ ধরে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তিলে তিলে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীভূত বলশেভিক পার্টি। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা সূচিত ও চূড়ান্ত হয় বলশেভিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

সারকথা হলো, পরিচিত বিপ্লবী ও অভ্যুত্থানগুলোর নিবিড় বিশ্লেষণ থেকে আমরা দেখতে পাই,

বিকেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা জমায়েত বা আন্দোলনের মাধ্যমে সাধারণ বৈপ্লবিক পরিবর্তনই অত্যন্ত অস্বাভাবিক ব্যাপার। প্রকৃত ইসলামী পরিবর্তন তো আরো গভীর, পরস্পরসংযুক্ত ও ধারাবাহিক মেহনতের দাবী রাখে।

রাতারাতি নয় বরং সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠা নের্তৃত্ব, ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনা, যথাযথ তরবিয়ত ও শৃঙ্খলা, পারষ্পরিক অভিজ্ঞতার আদানপ্রদান, ইস্পাতকঠিন সংহতি ও ঐক্য, সামষ্টিক বোঝাপড়ার জন্য অবশ্যই কেন্দ্রীকৃত প্রক্রিয়া আবশ্যক। যা কি না সহিহ আকিদা, নববি মানহাজ, সঠিক রূপরেখা ও গতিশীল সাংগঠনিক চিন্তার আলোকে রব্বানী-সবরকারী নেতাকর্মীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনই নিশ্চিত করতে পারে।