প্রশ্নঃ

অনেক তরুণ (বিশেষত যাদের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে সরকারি ও এসব শাসনপন্থী আলেমদের সাথে সম্পর্ক/আন্তরিকতা রয়েছে তারা) বলে যে তোমাদের শায়খ উমার মাহমুদ এমন অনেক বিষয় অবতারণা করেন যা আমাদের দেশের ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ’ তথা কর্তৃত্ববান আলেমদের প্রচলনের পরিপন্থী।

বিশেষত তাদের সাথে যখন কোন মাসআলা নিয়ে মতপার্থক্য হয় এবং তাকে দলীল প্রমাণ দিয়ে অনস্বীকার্য করে দিই। তৎক্ষণাৎ সে কথা ঘুরিয়ে ফেলার আশ্রয় গ্রহণ করে ও বলে যে, এই বক্তব্য আমাদের সময়ের প্রসিদ্ধ পরিচিত উলামায়ে কিরামের ঐকমত্যের বিপরীত।

এই বিষয়ে আপনি কি বলেন?

উত্তরঃ [1] 

সত্য কথাঃ আমার হাসি পায় যখন শুনি ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ’ বা কর্তৃত্বশীল উলামায়ে কিরাম! আসলে এগুলো এমন নামের বাহার যা বাস্তবতাবিবর্জিত।

‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ’ হলো তারা, যাদের হাতে অনুমোদন ও স্থগিতকরণের ক্ষমতা রয়েছে, যারা নিজ সিদ্ধান্তে সুরাহা দিতে পারে এবং বাস্তবায়ন করতে পারে।

আর এসব শাসকপন্থী আলেমদের সিদ্ধান্ত প্রদান এবং বাধাদানের কী ক্ষমতা আছে? না! বরং তারা-ই কোথাও বাঁধা থাকে, আবার কখনো তাদের খুলেও দেয়া হয়।

এটাই এদের বাস্তবতা, তাগুত তাদেরকে থামতে বললে থামে, চলতে বললে চলে।

আর তারা যে পরিষদের আওতাভুক্ত নিজেদের বানিয়ে রেখেছে সেগুলো সরকার অনুমোদিত, যেমন মিসরের শায়খুল আযহার পদ, তার সম্মান নষ্ট হয়ে পড়ে যখন তা রাষ্ট্রপ্রধানের তরফ থেকে নিয়োগ হতে লাগল।

তার আগে শায়খুল আযহার নির্ধারণ করতেন শীর্ষস্থানীয় উলামা কমিটি। তারা এই পদে সর্বাধিকযোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারণ করতেন, এখন মন্ত্রী বানানোর মত শায়খুল আযহার বানানো হয়।

এই কারনে বর্তমানে শায়খুল আযহার হলো আলী তানতাবী, যে তাগুতের পাদুকায় পরিণত হয়েছে এবং দ্বীনের শত্রুদের মধ্যে পরিপূর্ণ আক্ষরিক অর্থে-ই সেও একজন শত্রু। আবার সে শায়খুল আযহারও বটে।

আর এই যে জাযীরাতুল আরবে (তথাকথিত সৌদি আরব) ‘হাইআতু কিবারিল উলামা’ বা উচ্চতর উলামা পরিষদ- তাগুত শাসক তাদেরকে নিয়োগ দেয়। তারা শাসক নিয়োগ করে বিষয়টা তা নয়, বরং তাগুত শাসকরা-ই তাদের নিয়োগ দেয়।

তাগুতের সংগঠিত কোন কিছু যখন তারা রদ করতে চায়, সে তখন তাদের গর্দান বধ করে দেয়। তাগুতের নির্দেশনার বিপরীত কিছু তারা করতে চাইলে তাদের হাত ঘাড়ের পিছনে বেঁধে দেয়া হয়। কিছুদিন পূর্বে তাদের কোন একজনকে বাদ করে দেয়া হয়। শায়খ আব্দুর রাজ্জাক রাহিমাহুল্লাহ কে হাইআতু কিবারিল উলামা থেকে অপসারিত করা হয়, কারণ তিনি যাদের গোলাম এবং পাদুকা; তাদের পক্ষ থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।[2] এটাই এদের বাস্তবতা।

আমরা যা বলি এটি যে এসব আলেমদের বিপরীত হয় সেটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।

আমরা নিন্দিত হবো তখন, যদি আমাদের বক্তব্য আমাদের নির্ভরযোগ্য মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্যের বিপরীত হয়, যদি আমরা বিপরীত বলি কিতাবুল্লাহ যা বলেছে, হাদিস শরীফে যা এসেছে, সাহাবায়ে কিরাম যা করেছেন, বিশ্বস্ত তাবেয়ীগন যা বলেছেন, যেমন সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, সায়ীদ ইবনু জুবায়ির ও মুজাহিদ ইবনু জাবর। আমরা যদি এদের বিপরীত কিছু বলি তাহলে অবশ্যই নিন্দিত হবো।

আর যদি ইবনুল মুবারক, সুফিয়ান আস-সাওরী এই আলেমদের বক্তব্যের বিপরীত আমরা কিছু বলি তাহলে নিন্দিতও হতে পারি আবার নন্দিতও হতে পারি।

হ্যাঁ! তবে যদি আমরা (বর্তমানের) এসব আদর্শহীন আলেমদের বক্তব্যের বিপরীত কিছু বলি তাহলে আল্লাহর কসম! এটা আমাদের জন্য প্রশংসার বিষয়।

মুখ্য বিষয়াবলিতে এবং মূলনীতিতে আমরা সালাফদের বিপরীত বলেছি, প্রতিপক্ষ এমন কিছু নিয়ে আসুক দেখি!

হ্যাঁ! আমরা এসব আলেমদের বিপরীতে কথা বলছি কারণ এদের প্রতি আমাদের কোন আস্থা নেই। কারণ তারা সেই পক্ষই অবলম্বন করে এবং সেই সিদ্ধান্তই প্রকাশ করে যা আল্লাহর দুশমন কাফের তাগুত শাসকের অনুকূলে হয়।

প্রতিটি রাষ্ট্রই এবং এদের থেকে প্রত্যেক শাসকই মন্ত্রী নির্বাচনের মত করে কিছু গৃহপালিত সেবক ধর্মগুরু ও ভবিষ্যতবক্তা নিজের আশেপাশে জড়ো করে নিয়েছে।

উদাহরণত মাগরিবে পশ্চিম আফ্রিকায় এগুলোর নাম হলো, আদ দুরুসুল হাসানিয়্যাহ (সুন্দর পাঠসমুহ), অথবা আল হাইআতুল হাসানিয়্যাহ (সুন্দর পরিষদ) বা আত-তাজাম্মুয়ুল হাসানি (সুন্দর সভা)।

যেমন আরব উপদ্বীপে এদের নাম হলো হাইআতু কিবারিল উলামা, (শীর্ষ উলামা পরিষদ), আর রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী (মুসলিম বিশ্ব সংস্থা), জর্দানে হলো মুআসসাসাতু আহলিল বায়ত (আহলে বায়তের প্রতিষ্ঠান), ইরাকে আল মু’তামারুশ শা’বিলুল ইসলামী (মুসলিম জনতা কনফারেন্স), মিসরে আল-আযহার, লিবিয়ায় লাজনাতুদ্ দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ আল আলামিয়্যাহ (বিশ্বময় ইসলামি দাওয়াতি সংস্থা) ইত্যাদি।

এই ক্ষেত্রে এই অর্থে তাগুতদের এমন আরো অনেক সংস্থা রয়েছে।

আমার যতটুকু জানা আছে সবকটা রাষ্ট্রে-ই এদের দ্বারা তাগুত শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সজ্জিত করে রেখেছে, আর এরা তো এরা-ই, এখানে-ওখানে-সেখানে মাটির কীটের ন্যায় লম্ফঝম্ফ করে ছুটে বেড়ায়।

ইতিমধ্যে আল্লাহ তা’আলা এসব তাগুতদের দ্বারা এদেরকে কিছু পরীক্ষারও সম্মুখীন করেছেন, যেমন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সাদ্দাম কর্তৃক কুয়েত দখলের যুদ্ধের মুহুর্তে।

এসব আলেমরা দিশেহারা হয়ে পড়লো কোন দিকে যাবে? এই পক্ষে যাবে না সেই পক্ষে, কে জয়ী হবে?

তারা তাল মিলাতে অনুমান করতে লাগলো, কেউ কেউ এমন হলো তার কোন বর্ণ-গন্ধ-ই থাকলো না। সে শুধু এই প্রতিক্ষায় আছে দেখি কে বিজয়ী হয়!

আর কিছু দল এদিক সেদিক ভাগ হয়ে পড়েছে যেমন ইখওয়ানুল মুসলিমীন, তারা যদি সৌদি শাসকগোষ্ঠীর বিপক্ষে বলতে যায়, তাহলে তারা নিজেদের চাকরি হারায়, আবার তাদের কেউ ঘনিষ্ঠ ছিল জর্দানের, কারো সম্বন্ধ ছিল ইরাকের সাথে, ফলে তারা জটিল একটি উভয়সংকটে পড়ে যায়।

সেক্যুলার ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ইসলামপন্থীদের এসব (উদ্ভট দ্বিমুখীতার) কারনেও সমালোচনা করে থাকে, ইতিপুর্বে আল্লাহর তিরোহিত দুশমন ফারজ ফাওদা বলেছিল, “তোমরা আমাদেরকে কোন ইসলাম পালন করতে বলছো সৌদি তাগুতের পৃষ্ঠপোষক ইসলাম না ইরাকি প্রগতির তাগুতের ইসলাম।”

অতএব কে আছে এমন, যার জন্য এসব আলেমদের অনুসরণ প্রশংসনীয় হতে পারে?

সে-ই প্রশংসার উপযোগী, যে এসব আলেমদের অনুকরণ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, এই সময়ে সেই অভিনন্দিত, আর যে নিজের চিন্তা, বুদ্ধি, জ্ঞান ও দ্বীনকে আল্লাহর দ্বীন নিয়ে তামাশারতদের দ্বারা আবদ্ধ করে ফেলেছে সে-ই হলো নিন্দাযোগ্য।

আর বর্তমান সময়টি হলো কিতাব থেকে গ্রহণের সময়, যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার শেষ জামানার অনুসারীদের ব্যাপারে বলেছেন যে, তারা লটকানো পত্রের স্মরণাপন্ন হবে এবং সেটাকেই গ্রহণ করবে।[3] এবং এসব তাগুত সেবকদের কথার প্রতি খুব সতর্ক অবস্থান নিবে।

এর অর্থ এটা নয় যে, আমরা তাদের সব কথার-ই বিরোধিতা করবো বরং আমরা তাদেরকে সতর্কতার মানদন্ডে স্থাপন করবো, কারণ মিথ্যাবাদীও তো অনেক সময় সত্য কথা বলে থাকে এবং কখনো তাদের থেকে সঠিক কথাও প্রকাশ পায় বিধায় আমরা তাদের থেকে যা সঠিক সে গুলো নেব আর যেখানে তারা ভুলের স্বীকার হয়েছে তা পরিহার করবো।

সুতরাং তাদের বক্তব্যের বিপরীতে অবস্থানের কারণে আমাদের উপর দোষারোপ করা যাবে না বরং এই বিরোধিতার কারণে আমরা অবশ্যই অভিনন্দিত হবো।

আমরা – আমাদের জামাআত, আমাদের ব্যক্তিবর্গ – আমাদের আদর্শ গঠিত হয়েছে তাগুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, তাদের কাফের আখ্যায়িত করা, তাদের সাথে বিদ্রোহ করা, তাদের নিন্দা জানানো, তাদের পূজকদের গালমন্দ করা এবং তাদের অবস্থানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের উপর।

আমরা যা বললাম এগুলোর সাথে আল্লাহ তা’আলা যা বলেছেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, পূর্ববর্তী নির্ভরযোগ্য ইমামগণ যা বলেছেন, তার সাথে কোথায় বেমিল আছে?

“আর সমকালিনতা নিষিদ্ধ’ তাহলে তারা কিভাবে চায় যে আমরা সমসাময়িকদের কথা গ্রহণ করি। আর এটাও পূর্বসুরী সালাফদের কর্মপদ্ধতি; যা বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিআল্লাহু আনহু-

ولا تقلد دينك للحي، لأنه لا تؤمن عليه الفتنة

“তোমার দ্বীনকে কোন জীবিত ব্যক্তির অনুগামী বানিও না, কারণ সে ফিতনাগ্রস্থ হওয়ার ব্যপারে নিঃশঙ্ক হওয়া যায় না।”

অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এসব জীবিতদের হাকীকতও বলে দিয়ে গেছেন-

من أتى أبواب السلاطين افتتن

“যে ব্যক্তি শাসকশ্রেনির দ্বারে দ্বারে গমন করে, সে ফিতনাগ্রস্থ হয়ে যায়।”

তাহলে এসমস্ত লোকদের ক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফায়সালা হলো যে, তারা ফিতনাগ্রস্থ এবং তারা ফিতনাবাজ, তাগুত যা বলে তারা সেই কথা-ই বলে, ওদের আদেশ থেকে তারা নির্দেশনা লাভ করে।

আর আমাদের ইমাম এই সব লোকেরা নয়।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

أخوف ما أخاف عليكم الأئمة المضلون

“তোমাদের জন্য সর্বাধিক ভয়ঙ্কর যে বিষয়ের ভয় করছি, সেটা হলো গোমরাহকারী সব ইমাম।”

(ইমাম আহমাদ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।)

এ সব ইমামদেরকে আমরা ভয় করি এবং এদের থেকে লোকদের সতর্ক করি।

এবং উম্মতের জন্য অপরিহার্য যে তারা ঐসব ইমামদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করবে যারা দ্বীন নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে রয়েছেন, শাসকবৃন্দের বিভিন্ন দ্বার থেকে দুরত্ব বজায় রেখেছেন, এবং শাসকবৃন্দের জীবনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি, তাদের পন্থা থেকে এবং তাদের সংবিধান গ্রহণের ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার এই দ্বীনই আমরা গ্রহণ করেছি।


-----------------------------------------

[1] এই লেখাটি নেয়া হয়েছে শায়খের আলোচনার এক রেকর্ড থেকে যেখানে তিনি এক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। আমরা সেটা থেকে নিতে গিয়ে কিছু বাক্য ও শব্দ পঠনরীতির সাথে মিল রাখার জন্য পরিমার্জন করেছি যেমন কোন অব্যয় যুক্ত করা, কোন শব্দ অগ্রপশ্চাৎ করা, কথ্যবাক্যের পরিবর্তে বিশুদ্ধ বাক্য রাখা। যেমন মিম্বারের মূল বক্তব্যের সাথে কিছু টীকা সংযুক্ত করেছি।

[2] এছাড়াও ২০০৯ এ কিং আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা চালুর বিরোধিতা করায় হাইআতু কিবারিল উলামার সদস্য সাদ বিন নাসির আশ-শিতরিকে পদচ্যুত করা হয়।

[3] عن جبير، أنه قال: قدم علينا أبو جمعة الأنصاري صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ببيت المقدس ليصلي فيه، ومعنا رجاء بن حيوة يومئذ، فلما انصرف خرجنا معه لنشيعه، فلما أردنا الانصراف، قال: إن لكم علي جائزة وحقا أن أحدثكم بحديث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلنا: هات يرحمك الله، فقال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، معنا معاذ بن جبل عاشر عشرة، فقلنا: يا رسول الله، هل من قوم أعظم منا أجرا آمنا بك واتبعناك؟ قال: (ما يمنعكم من ذلك ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهركم، يأتيكم الوحي من السماء، قوم يأتيهم كتاب بين لوحين فيؤمنون به ويعملون بما فيه، أولئك أعظم منكم أجرا، أولئك أعظم منكم أجرا، أولئك أعظم منكم أجرا) [المعجم الكبير، للطبراني، برقم: 3460

জুবাইর রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, বাইতুল মাকদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবি আবু জুমআ আল আনসারি আমাদের নিকট নামাযের জন্য আসলেন, সেইদিন আমাদের সাথে ছিলেন রাজা’ ইবনে হায়ওয়া, পরে যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন আমরা তাঁকে এগিয়ে দেয়ার জন্য তার সাথে বের হলাম, যখন আমরা ফিরতে শুরু করলাম তিনি বললেন,

আমার নিকট তোমাদের জন্য একটি হাদিয়া আছে, এটা আমার অধিকার যে আমি তোমাদেরকে একটি হাদিস শুনিয়ে দেব যা আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমরা বললাম, জ্বী বলুন (আল্লাহ তা’আলা আপনার উপর রহম করুন)। তিনি বললেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম আর আমাদের সাথে ১০ জনের ১ জন ছিলেন মুয়ায ইবনে জাবাল রাদ্বিআল্লাহু আনহু। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো জামাআত কি আমাদের চেয়ে বেশী সাওয়াবের ভাগীদার হতে পারবে? আমরা তো আপনার উপর ঈমান এনেছি আপনার সরাসরি অনুসরণ করছি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা তো এমনটি করবেই যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও য়াসাল্লাম তোমাদের মাঝে বিদ্যমান, তোমাদের কাছে আসমান থেকে ওহী আসে (যা তোমরা প্রত্যক্ষ করে থাক।)

একটি জামাআত এমন হবে তাদের নিকট কিতাব আসবে দুই মলাটের মাঝে, তারা এর উপর ঈমান আনবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে এসব লোকেরা সাওয়াব বেশী পাবে। (মু’জামুল কাবীর, তাবরানী-৩৪৬০)

عن عمر بن الخطاب، قال: كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم جالسا فقال: (أنبئوني بأفضل أهل الإيمان إيمانا؟)، قالوا: يا رسول الله، الملائكة! قال: (هم كذلك، ويحق لهم ذلك، وما يمنعهم وقد أنزلهم الله المنزلة التي أنزلهم بها؟ بل غيرهم)، قالوا: يا رسول الله، الأنبياء الذين أكرمهم الله برسالته والنبوة! قال: (هم كذلك، ويحق لهم، وما يمنعهم، وقد أنزلهم الله المنزلة التي أنزلهم بها؟ بل غيرهم)، قالوا: يا رسول الله، الشهداء الذين استشهدوا مع الأعداء! قال: (هم كذلك ويحق لهم، وما يمنعهم، وقد أكرمهم الله بالشهادة مع الأنبياء؟ بل غيرهم)، قالوا: فمن يا رسول الله؟ قال: (أقوام في أصلاب الرجال، يأتون من بعدي، يؤمنون بي ولم يروني، ويصدقون بي ولم يروني، يجدون الورق المعلق فيعملون بما فيه، فهؤلاء أفضل أهل الإيمان إيمانا) [مسند أبي يعلى الموصلي، برقم: 149].

উমার ইবনে খাত্তাব রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত; তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন,

বলো দেখি ঈমানের মধ্যে শ্রেষ্ট ঈমানের অধিকারী কে? সবাই বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ফেরেশতাগণ! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তারা এমনই এবং এটা তাদের জন্য হবারই কথা, আর কেনই বা হবে না যখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সেই মর্যাদা দিয়েছেন যা তারা লাভ করে আছে? বরং অন্য কেউ।

সাহাবাগণ বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! নবীগণ! যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের দ্বারা সম্মানিত করেছেন, বললেনঃ তাঁরা এমনই। এটাই হবার কথা আর কেনই বা হবে না যখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সেই মর্যাদা দিয়েছেন যা তারা লাভ করে আছে? বরং অন্য কেউ।

সাহাবাগণ বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! শহীদগণ! যারা শত্রুর সাথে (লড়াইয়ে) শহীদ হয়েছেন। বললেনঃ তাঁরা এমনই এটাই হবার কথা আর কেনই বা হবে না যখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে নবীদের সাথে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়েছেন? বরং অন্য কেউ।

সাহাবাগন বললেন, তাহলে কে ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, পূর্বপুরুষদের শিরদাঁড়ায় কিছু লোক আছে আমার পরে তারা আসবে, আমার উপর ঈমান আনবে অথচ তারা আমাকে দেখেনি, আমাকে সত্যায়ন করবে অথচ আমাকে দেখেনি, লটকানো পত্র তারা লাভ করবে সেখানে যা আছে তার উপর আমল করবে; তারা ঈমানদারদের মধ্যে শ্রেষ্ট ঈমানদার। (মুসনাদে আবু ইয়া’লা ১৪৯)